1. admin@dailydigantor.com : admin :
পদত্যাগ করে একটা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন ; ফখরুল ইসলাম – দৈনিক দিগন্তর
শুক্রবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:১৩ অপরাহ্ন
শুক্রবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:১৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

পদত্যাগ করে একটা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন ; ফখরুল ইসলাম

দৈনিক দিগন্তর ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৩

 

স্টাফ রিপোর্টার।। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আপনাদের ক্ষমতা থেকে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। সুতরাং বিদেশে ঘোরাঘুরি করে কোনো লাভ নেই। এখনও সময় আছে, পদত্যাগ করে একটা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক ছাত্র কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

সর্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা, নিরাপদ ক্যাম্পাস, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে এই কনভেনশন হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে দেশে একটা শ্রেণি সম্পদের পাহাড় বানিয়েছে। তারা টাকা বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে। আর আমাদের ছেলে-মেয়েরা যারা এখানে বসে আছে, তারা এই দেশেই পড়াশোনা করছে।

তিনি বলেন, একজন তুখড় সাবেক ছাত্রনেতা এ্যানীকে (শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী) তারা গভীর রাতে গ্রেফতার করে নির্মমভাবে পিটিয়েছে। এ্যানী আদালতে বলেছে, আমাকে যেভাবে পিটিয়েছে চোর-ডাকাতকেও এভাবে পেটায় না। সুতরাং মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকবেন না, জেগে উঠতে হবে। না হলে আজকে এ্যানীকে যেভাবে মেরেছে, কালকে আপনাকে এভাবে মারতে পারে- আপনার পরিবারকেও এভাবে মারতে পারে।

ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যখন যুবক-ছাত্র ছিলাম, অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি। প্রতিবাদ করেছি সবসময়, সামনা-সামনি প্রতিবাদ করেছি। এখানে অনেকেই বসে আছেন, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন- যুদ্ধ করেছেন। এখন আপনাদের কাছে গুরুদায়িত্ব এসেছে। আপনারা এই ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করবেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে তারা। আমার মাকে (বিএনপি চেয়ারপারসন) তারা অসহায় অবস্থায় বন্দি করে রেখেছে, চিকিৎসা করাতে দিচ্ছে না। আমার ভাইকে মেরে আহত করছে। আমার ৬৪৮ জন ভাইকে তারা গুম করেছে। সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে তারা জুডিশিয়াল কিলিং করে হত্যা করেছে। এক বছরে ২২ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। আমাদেরকে বিদ্রোহ করতে হবে। তাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে।

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের ক্ষমতা থেকে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। ঘোরাঘুরি করে লাভ নেই। পরিষ্কার করে বলতে চাই, এ দেশের সকল মানুষ আপনাদের অত্যাচার-নির্যাতন-দুঃশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে গেছে, তারা বাঁচতে চায়। আপনাদের নির্যাতন, যন্ত্রনা, চুরি-দুর্নীতি সবকিছু থেকে এখন মানুষ বাঁচতে চায়। এখনও সময় আছে, একটা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খানের সভাপতিত্বে ছাত্র কনভেনশনে নাগরিক ঐক্যের।

সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহিত আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি নুরুল হক নুর, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহবায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণফোরামের (মন্টু) সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। কনভেনশনে ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্রঐক্যের মুখপাত্র ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ১৫টি ছাত্র দল সংগঠনে নিয়ে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যে’র আত্মপ্রকাশ হয়। সংগঠনগুলো হচ্ছে : জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্রলীগ (জেএসডি), গণতান্ত্রিক ছাত্রদল (এলডিপি), নাগরিক ছাত্র ঐক্য, জাগপা ছাত্রলীগ (প্রধান), ছাত্র ফোরাম (গণফোরাম-মন্টু), ভাসানী ছাত্র পরিষদ, জাতীয় ছাত্র সমাজ (কাজী জাফর), জাতীয় ছাত্র সমাজ (বিজেপি-পার্থ), জাগপা ছাত্রলীগ (খন্দকার লুৎফর), ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ, বিপ্লবী ছাত্র সংহতি এবং রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলন।

ছাত্র ঐক্যের এই কনভেনশনে ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেওয়ায় মিলনায়তনসহ ইন্সটিটিউট প্রাঙ্গণ বিরোধী ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশে পরিণত হয়। জাতীয় ছাত্র ঐক্যের সমন্বায়ক ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খানের সভাপতিত্বে এই কনভেনশনে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাগপার একাংশের রাশেদ প্রধান, আরেক অংশের খন্দকার লুৎফর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের একাংশের নুরুল হক নূর, জমিয়তের গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, এলডিপির নুরুল আলম, বিএনপির আবদুল হাই শিকদার, রকিবুল ইসলাম বকুল, শিক্ষক অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম প্রমুখ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

ছাত্র কনভেনশনে ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছাত্র অধিকার পরিষদের তারিকুল ইসলাম, ছাত্র ফেডারেশনের মশিউর রহমান খান রিচার্ড, ছাত্রলীগের (জেএসডি) তৌফিক উজ জামান পীরাচা, গণতান্ত্রিক ছাত্রদলের মেহেদি হাসান মাহবুব, নাগরিক ছাত্র ঐক্যের মেহেদি হাসান মুন্না, জাতীয় ছাত্র সমাজের (কাজী জাফর) কাজী ফয়েজ আহমেদ, জাগপা ছাত্রলীগের আব্দুর রহমান ফারুকী, ভাসানী ছাত্র পরিষদের আহম্মেদ শাকিল, ছাত্র জমিয়তের নিজাম উদ্দিন আল আদনান, জাতীয় ছাত্র সমাজের (পার্থ) সাইফুল ইসলাম, ছাত্র ফোরামের (গণফোরাম) সানজিদ রহমান শুভ, বিপ্লবী ছাত্র সংহতির ফহিবুর রহমান মুনির, রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলনের আহমেদ ইসহাক, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের শহীদুল ইসলাম রিয়াজ, নারী নেত্রী ছাত্রদলের মানসুরা আলম, ছাত্র ফেডারেশনের ফারহানা মানিক মুনা বক্তব্য রাখেন।

 

Facebook Comments Box
সংবাদটি শেয়ার করুন :
এ জাতীয় আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা