1. admin@dailydigantor.com : admin :
কাজের সন্ধানে ওমানে গিয়ে প্রতারণার শিকার – দৈনিক দিগন্তর
রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন
রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন

কাজের সন্ধানে ওমানে গিয়ে প্রতারণার শিকার

দৈনিক দিগন্তর ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৩

 

নিজস্ব সংবাদদাতা।।কাজের সন্ধানে ওমান গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন নড়াইলের নড়াগাতী থানার কিছু মানুষ। সহায়-সম্বল বিক্রি করে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় বিদেশ গিয়ে প্রতারণার শিকার হন তারা।

অনেকে আবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন ওমানে। কেউ কাজ পেয়ে আবার কেউ কাজ না পেয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। ক্ষতিপূরণ ও বেতনের টাকা ফেরত চাইলে, মিথ্যা মামলায় হয়রানী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

ভাগ্য বদলের আশায় জমিজমা, স্বর্ণালংকার, গরু-ছাগল বিক্রি ছাড়াও ঋণের টাকায় ওমান গিয়ে, প্রতারণার শিকার হয়েছেন নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাঐসোনা ইউনিয়নের দক্ষিণ যোগানীয়া ও ডুমরিয়ার ছয় জন যুবক।

ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সাথে কথা হলে তারা বলেন, ভালো চাকুরি দেয়ার কথা বলে সাহাঙ্গীর ফকির ও তার ছেলে রবিউল ফকির বিভিন্ন বয়সের ১১ জন যুবকে বিভিন্ন সময় ওমান নিয়েছে। বিদেশ গিয়ে তারা প্রতারণার শিকার হয়ে তাদের কেউ কেউ দেশে ফিরে আসলেও এখনও অনেকে ওমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ভুক্তভোগী পারভেজ খান বলেন ওমানে নিয়ে চাকুরি দিয়ে বেতনের পেপারে স্বাক্ষর নিয়ে তাদের বেতনের টাকা হাতিয়ে নিত রবিউল ও তার পাকিস্তানি চক্র টি, বেতনের টাকা চাইলে আমাদের উপর নেমে আসত নির্যাতন পানির লাইন ও কারেন্ট বন্ধ করে দিত, ভাল কোন খাবার দিত না, বেতনের টাকা না দেওয়ায় কাজে করতে না চাইলে মারধর করত তারা।

পারভেজ খানের পিতা আক্ষেপ করে বলেন আমি গরিব মানুষ সহয় সম্বল বিক্রি করে ছেলেকে ওমান পাঠিয়েছিলাম সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছে আমার ছেলেসহ আরো পাচ জন, তাদের উপর নির্যাতনের কথা জান্তে পেরে আমরা সবাই যার যা ছিল বিক্রি করে বাড়িতে নিয়ে এসেছি আমি এর বিচার চাই।

এ বিষয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা হলে তারা বলেন বিদেশে নিয়ে বেতনের টাকা না দিয়ে প্রতারণা করছে পরে চেয়ারম্যান সালিশের মাধ্যমে কিছু টাকা তুলে দিয়েছে।

অভিযুক্ত সাহাঙ্গীর এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমাকে নিয়ে তারা যা বলেছে তা সঠিক নয়, আমরা তাদের বৈধ ভিসার মাধ্যমেই ওমান পাঠিয়েছি দুই বছরের আকামা দিয়েছি টাইলস কোম্পানিতে চাকরি দিয়েছি বেতনের একটু সমস্যা হয়েছিল চেয়ারম্যান সালিশের মাধ্যমে যে সমাধান দিয়েছেন আমি সেই অনুযাই তাদের বেতনের টাকা পরিশোধ করেছি আর কিছু টাকা আমি মাফ চেয়ে নিয়েছি।

এ সম্পর্কে বাঐসোনা ইউনিয়ন পরিষদের দক্ষিণ যোগানীয়া ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ সোহাগ শেখ বলেন তাদের বিষয়ে চেয়ারম্যান সহ গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্ময়ে একটা সালিশ হয়েছে তাদের আমরা ৪ লক্ষ ৫০ হাজার তুলে দিয়ছি। ভুক্তভোগীরা তাদের ক্ষতিপূরণ চাইলে পরবর্তিতে বাকি টাকা উভয় পক্ষের সাথে পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সিদ্ধান্ত দেন সালিশি বৈঠক। পরিবর্তিত সমাধানের জন্য বারবার সাহাঙ্গীর ফকিরকে ডাকা হলে তিন হাজির হচ্ছেন না। ভুক্তভোগী পরিবারকে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে বলেছি।

এ অভিযোগ ও সালিশের মাধ্যমের সমাধান সম্পর্কে বাঐসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস,এম চুন্নুর কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কোন কথা বলতে রাজি হননি, পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগীদের দাবি ওমান থেকে রবিউল ফকিরকে ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও শাস্তির ব্যবস্থা করবে বলে এমন দাবি করেন ভুক্তভোগীদের পরিবার। এ সংক্রান্ত বিষয়ে বালা শেখ বাদি হয়ে নড়াগাতী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

Facebook Comments Box
সংবাদটি শেয়ার করুন :
এ জাতীয় আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা