1. admin@dailydigantor.com : admin :
আক্কেলপুর হানাদার মুক্ত দিবস আজ – দৈনিক দিগন্তর
রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন
রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন

আক্কেলপুর হানাদার মুক্ত দিবস আজ

দৈনিক দিগন্তর ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩

 

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি।।
আজ ১৩ ডিসেম্বর আক্কেলপুর উপজেলার জন্য একটি গৌরবময় দিন। এই দিনে পাকসেনাদের হটিয়ে মুক্তিকামী সংগ্রামী জনতা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানাকে শত্রু মুক্ত ঘোষণা করে। স্বাধীনতার পর থেকে বিজয় দিবসের তিন দিন আগে এই দিনে পালিত হয় আক্কেলপুর হানাদার মুক্ত দিবস।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল সান্তাহার হতে রেলপথ দিয়ে পাক সেনারা আক্কেলপুরের দিকে প্রবেশ করে। এ সময় রেলগাড়ি থামিয়ে সর্ব প্রথমে জাফরপুর ষ্টেশনের দক্ষিণ পশ্চিমে পরে ভদ্রকালী গ্রামে আরম্ভ করে অগ্নিসংযোগ। অগ্নিসংযোগ করে একের পর এক বাড়িঘর পুড়িয়ে তাণ্ডব শুরু করে ও নিরীহ জনতার উপর গুলি চালায় এসময় আব্দুল মজিদ নামে একজন মুক্তিকামী জনতা গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।
ঐদিন বিকেলে পাকবাহিনী আক্কেলপুরে প্রবেশ করে। পাকবাহিনী সিনিয়র মাদ্রাসায় প্রধান ক্যাম্পসহ আক্কেলপুর রেলস্টেশন, নবাবগঞ্জঘাট (পারঘাটি) কেন্দ্রীয় দূর্গা মন্দির, জামালগঞ্জ ও তিলকপুর রেলস্টেশনে শাখা ক্যাম্প স্থাপন করে। পাক সেনারা বিভিন্ন গ্রামে অগ্নিসংযোগ মাধ্যমে নিরীহ মানুষদের আতংকিত করে তাদের বাড়িঘরে লুটপাট নারীদের ধর্ষণ করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় দেশীয় রাজাকার , আলবদর, আলশামস ও দালালরা।
আক্কেলপুর থেকে মুক্তিকামী জনতা ও শরণার্থীরা পালিয়ে জীবন বাচাঁতে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়। সেই মুহূর্তে বিভিন্ন গ্রাম থেকে মুক্তিকামীরা মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। শপথ নেন দেশ স্বাধীনের দৃঢ় প্রত্যয়ে। পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের ৯ মাসের যুদ্ধে অঘোষিত থানার ৮ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।
বগুড়ার পাইকার বংশের ছেলে যার নামে বগুড়ার শহীদ খোকন পার্ক প্রতিষ্ঠিত সেই খোকন পাইকার ভারতে মুক্তিযোদ্ধার প্রশিক্ষণ নিয়ে বগুড়া যাওয়ার উদ্দেশ্য আক্কেলপুর উপজেলার রোয়াইর গ্রামে দালাল ও রাজাকারদের হাতে ধরা পরে। দালালরা পাক সেনাদের কাছে হস্তান্তর করে পাক সেনারা সিনিয়র মাদ্রাসা ক্যাম্পের পিছনে গুলি চালিয়ে হত্যা করে খোকন পাইকারকে মাটি চাপা দেয়। তিনি শহীদ হন। শহীদ হন পাহাড়পুরের যুদ্ধে আক্কেলপুরের ফজলুল করিম সহ অনেকে। শহীদদের গণকবর এখানে রয়েছে। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ভোরে পাকসেনারা আক্কেলপুর থেকে পায়ে হেঁটে জয়পুরহাটের অভিমুখে পালিয়ে যায়। স্থানীয় রাজাকার, আলবদর, দালালরা গা ঢাকা দেয়। ভোরে মুক্তিবাহিনী দখল করে আক্কেলপুর। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে স্বাধীন হয় আক্কেলপুর। উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজ পতাকা।
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুরুল আলম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে মুক্তিযোদ্ধাদের। কোনোভাবেই ইতিহাস যাতে বিকৃতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, আক্কেলপুর হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে সকাল ১০টায় মুক্তিযুদ্ধা কমপ্লেক্স চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বেলুন ও শান্তির প্রতিক পায়রা উড়ানোসহ পদযাত্রা, স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজন করা হয়েছে।
সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নবীবুর রহমান বলেন, এই দিনে ভোরে হানাদার বাহিনী আক্কেলপুর থেকে জয়পুরহাট ও বগুড়ার অভিমুখে পালিয়ে যায়। দালাল, রাজাকাররা আত্মগোপন করে। আক্কেলপুরে প্রবেশ করে শত শত মুক্তিযোদ্ধা।

 

Facebook Comments Box
সংবাদটি শেয়ার করুন :
এ জাতীয় আরও সংবাদ

ফেসবুকে আমরা